বাক্য কাকে বলে? বাক্য কয় প্রকার ও কী কী?

বাক্য কাকে বলে? বাক্য কয় প্রকার ও কী কী? – ভাষার বৃহত্তম একক হল বাক্য। নিম্নে বাক্যের গঠন এবং বাকের অর্থগত এবং শ্রেণীগত প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সব PDF গুলি একসঙ্গে ডাউনলোড করতে আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হন।

বাক্য কাকে বলে?

এক বা একাধিক পদ বা পদসমষ্টির মিলিত রূপ দ্বারা যদি মনের ভাব প্রকাশ পায় তাহলে উক্ত পদসমষ্টিকে বাক্য বলে। যেমনঃ আমি স্কুলে যাই, সে দশম শ্রেণীতে পড়ে, তারা ফুটবল খেলছে, ইত্যাদি।
প্রতিটি বাক্যই প্রধান দুটি অংশে বিভক্ত – [1] উদ্দেশ্য [2]. বিধেয়

[1] উদ্দেশ্য

বাক্যের যে-অংশ সম্মন্ধে কিছু বলা হয় বা বাক্যের যে অংশে কারও সম্মন্ধে কিছু বলা হয়, তাকেই বলা হয় উদ্দেশ্য।
যেমনঃ রোহিত ভালো ক্রিকেট খেলে। এই বাক্যে রোহিত হল উদ্দেশ্য। কারন তার সম্মন্ধেই কিছু বলা হয়েছে।

[2] বিধেয়

বাক্যের যে অংশে উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বলা হয় তাকেই বলা হয় বিধেয়।
যেমনঃ রোহিত ভালো ক্রিকেট খেলে। এই বাক্যের বিধেয় সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তা হল ভালো ক্রিকেট খেলে – এটিই হল বিধেয়।

বাক্যের গঠনগত শ্রেণিবিভাগ

গঠনগত ভাবে বাক্যকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয় –

  1. সরল বাক্য
  2. যৌগিক বাক্য
  3. জটিল বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য

1. সরল বাক্য কাকে বলে?

যে বাক্যে একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বর্তমান, তাকে সরল বাক্য বা সাধারণ বাক্য বলা হয়। যেমনঃ সে ফুটবল খেলে। এই বাক্যের একটি মাত্র সমাপিকা হল “খেলে”

2. যৌগিক বাক্য কাকে বলে?

একাধিক সরলবাক্য যখন অর্থ ও গঠন অপরিবর্তিত রেখে এক বা একাধিক সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা মিলিত হয়ে বাক্য গঠন করে, তখন সেই বাক্যকে যৌগিক বাক্য বলা হয়। যেমনঃ রোহিত ভালো ক্রিকেট খেলোয়াড় কিন্তু বিশ্বকাপে ভালো খেলেনি। এখানে দুটি সরল বাক্য একটি সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে যৌগিক বাক্য গঠন করেছে।

3. জটিল বাক্য কাকে বলে?

যে বাক্য একটি স্বাধীন সরল বাক্য এবং এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলা হয়। যেমনঃ আমি জানি যে তুমি মিথ্যাবাদী নও। এখানে ‘আমি জানি’ হল সরল বাক্য এবং ‘যে তুমি মিথ্যাবাদী নও’ হল আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

4. মিশ্র বাক্য কাকে বলে?

সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের মধ্যে যে-কোনো দু-প্রকার বাকি যুক্ত হয়ে মিশ্র আকারের বৃহত্তর কোনো জটিল বা যৌগিক বাক্য গঠন করলে তাকে মিশ্র বাক্য বলা হয়। যেমনঃ আমরা বাড়ি এলাম আর বাবাও এলেন এক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যে বাবার অফিসে চাকরি করে। এখানে ‘আমরা বাড়ি এলাম’ হল সরল বাক্য এবং ‘বাবাও এলেন এক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যে বাবার অফিসে চাকরি করে’ হল জটিল বাক্য।

You Can Also Read: Bengali Letter Writing Book PDF

বাক্যের অর্থগত শ্রেণিবিভাগ

অর্থগত ভাবে বাক্যকে 7 টি ভাগে ভাগ করা হয় –

  1. নির্দেশক বাক্য
  2. প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
  4. প্রার্থনা সূচক বাক্য
  5. সন্দেহসূচক বাক্য
  6. আবেগসূচক বাক্য
  7. শর্তসাপেক্ষ বাক্য

1. নির্দেশক বাক্য

যে বাক্য কোনো বক্তব্য সাধারণভাবে নির্দেশিত হয় বা অস্বীকার করা হয়, তাকেই নির্দেশক বাক্য বলে। যেমনঃ আমরা পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করি, বাঙালি আড্ডা ছাড়া বাঁচতে পারে না ইত্যাদি।

2. প্রশ্নবাচক বাক্য

যে-বাক্যে কোনো কিছু জানতে চেয়ে প্রশ্ন করা হয় বা যে-বাক্যের মাধ্যমে প্রশ্ন বোঝায়, তাকেই প্রশ্নবাচক বাক্য বলে। যেমনঃ তুমি দিনাজপুরের কোথায় থাকো?, তুমি কি এই গাড়িটা কিনবে? ইত্যাদি।

3. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য

যে-বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকেই অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে। যেমনঃ এই রাস্তা দিয়ে যেও না, তুমি কাল একবার আমার বাড়িতে এসো ইত্যাদি।

4. প্রার্থনাসূচক বাক্য

যে-বাক্যে বক্তার মনের ইচ্ছা, আকাঙ্খা, প্রার্থনা বা কামনা প্রকাশিত হয়, সেই বাক্যকে প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে। যেমনঃ ভগবান তোমার মঙ্গল করুক, এই মহামারীতে সবাই যেন সুস্থ থাকে ইত্যাদি।

5. সন্দেহসূচক বাক্য

যে-বাক্যে বক্তার মনের কোনো সন্দেহ, সংশয় বা অনুমান প্রকাশিত হয়, তাকে সন্দেহসূচক বাক্য বলে। যেমনঃ আগামী কাল বৃষ্টি হতে পারে, তোমার জ্বর হয়েছে বুঝি ইত্যাদি।

6. আবেগসূচক বাক্য

যে-বাক্যে আনন্দ, শোক, ক্রোধ, ঘৃণা, বিরক্তি, বিস্ময়, উৎসাহ ইত্যাদি কোনো একটি আবেগ প্রকাশিত হয়, তাকেই বলে আবেগসূচক বাক্য। যেমনঃ আজ কী আনন্দ আকাশে বাতাসে, ছিঃ এমন কাজ তোমায় মানায় না ইত্যাদি।

7. শর্তসাপেক্ষ বাক্য

যে-বাক্যে বর্ণিত একটা ঘটনা বা অবস্থার উপর অন্য্ একটি ঘটনা বা অবস্থার নির্ভরশীলতা ব্যক্ত হয়, তাকেই শর্তসাপেক্ষ বাক্য বলে। যেমনঃ যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়, এ বছর ফসল ভালো হবেই, মন দিয়ে পড়াশোনা করো, অবশ্যই ভালো ফল পাবে ইত্যাদি।

1 thought on “বাক্য কাকে বলে? বাক্য কয় প্রকার ও কী কী?”

Leave a Comment

Your email address will not be published.

three × 4 =